বুধবার ১ আগষ্ট নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার
আত্মসন্ধানী মরমি কবি বাউলসাধক জালাল উদ্দিন খাঁ’র ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
হয়েছে । এ উপলক্ষে রাতে আশুজিয়া ইউনিয়নের সিংহেরগাঁও গ্রামে জালালের সমাধি প্রাঙ্গণে দোয়া মাহফিল ও জিকির-আসগার অনুষ্ঠিত হয়। শেষে
স্থানীয় বাউলশিল্পীরা জালাল খাঁর জীবন-কর্ম নিয়ে আলোচনা ও তার রচিত গান পরিবেশন করেন।
প্রতি বছরই নানা আয়োজনের মাধ্যমে জালাল খাঁ’র মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়ে আসছে।
জালাল গবেষক ও ভক্তরা জানান, জালাল উদ্দিন খাঁ ১৮৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল কেন্দুয়া
উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের আসদহাটি গ্রামে তার বাবার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছদরুদ্দিন খাঁ ছিলেন একজন
সুশিক্ষিত প্রাজ্ঞ ব্যক্তি। জালাল খাঁর ১ম স্ত্রী ২ সন্তান রেখে মারা যান। সেই থেকে
উদাসীন
জীবনযাপন শুরু হয় জালালের। এরপর এক সন্ন্যাসী দ্বারা আদেশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি বাউলচর্চা শুরু করেন। একের পর এক লিখতে থাকেন
গান। অসংখ্য গান লিখেছেন তিনি। একসময় বাংলাদেশ বেতারে আব্দুল আলিম, আব্বাস উদ্দিনের কণ্ঠে জালালের গান ছিল শ্রোতাদের প্রিয়। তার গান দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে গেছে। তার লেখা 'জালাল গীতিকা' (গানের বই) ১ম থেকে
৫ম খন্ড ও 'বিশ্ব রহস্য' (প্রবন্ধের বই) প্রকাশিত
হয়েছে। শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকারও 'জালাল গীতিকা সমগ্র' শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। এই মহান সাধক ১৯৭২ সালের ১ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।
এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জালালের স্মৃতিরক্ষার্থে কেন্দুয়ায় একটি জালাল একাডেমী
করার জন্য দাবি জানালেও সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
প্রতিবেদন : জিয়াউর রহমান জীবন
No comments:
Post a Comment